Penny Stock in Bengali: পেনি স্টক কি? পেনি স্টকের সুবিধা ও অসুবিধা

Penny Stock in Bengali: পেনি স্টক কি? পেনি স্টকের সুবিধা ও অসুবিধা

আজকের এই পোষ্টে আমরা জানব পেনি স্টক কী, কীভাবে পেনি স্টক নির্বাচন করবেন, কীভাবে পেনি স্টকে বিনিয়োগ করবেন, পেনি স্টকের সুবিধা ও অসুবিধা ইত্যাদি।

যারা দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বাজারের সাথে যুক্ত তারা প্রত্যেকেই এই পেনি স্টকের সংঙ্গে পরিচিত । যদিও  এটি অন্যান্য স্টকের মতোই ,  এটির  তাদের থেকে কিছুটা আলাদা। এই  কারণে মানুষ এই স্টকটি খুব পছন্দ করে। আজ এই পোস্টে আমি আপনাকে পেনি স্টক সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেব।

সহজ কথায় বলতে গেলে পেনি স্টক হল সেই সমস্ত স্টক যা বাজারে সম্পূর্ণ নতুন। বর্তমানে এগুলোর দাম খুবই কম। ভারতে 50 টাকার কম দামের স্টকগুলিকে পেনি স্টক বলা হয়।  এটাও বলতে পারি যে ছোট কোম্পানির শেয়ার বা স্টককে পেনি স্টক বলা হয়, যার দাম কম। পশ্চিমা দেশগুলিতে, ১ ডলারের নিচের  স্টককে পেনি স্টক বলা হয়।

সাধারণত যেসব কোম্পানি নতুন বা দেউলিয়া হয়ে গেছে, তাদের শেয়ারের দাম  খুব কম । এই স্টক অর্থের জন্য ব্যবসা করে। এতে ঝুঁকি  যেমন  অনেক বেশি, তেমনি লাভও সমানভাবে বেশি। এই ধরণের স্টকগুলি অল্প সময়ের মধ্যে দুর্দান্ত রিটার্ন দেয়, তবে বিপরীতে এই স্টকগুলি  আমাদেরকে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তায় নিয়ে আসতে পারে।কিন্তু কেন এটি এমন হয় তা নিয়ে আমরা কথা বলব।

 

কিভাবে পেনি স্টকে বিনিয়োগ করবেন?

পেনি স্টক হোক বা অন্য কোনো স্টক, এতে বিনিয়োগ করার জন্য আপনার একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে। আপনি  ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ছাড়া কোনো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন না।

এখন যদি আপনার মনে প্রশ্ন থাকে যে এই ডিম্যাট অ্যাকাউন্টটি কী? এর উত্তরে বলতে হয়-   ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এমন একটি অ্যাকাউন্ট যেখানে আপনি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন। এটি আপনাকে শেয়ার বাজার থেকে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ দেয়।

আপনি আপনার মোবাইল ফোনের সাহায্যে ঘরে বসে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এর জন্য আপনার আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর এবং বয়স 18 বছরের বেশি হতে হবে।

পেনি স্টকগুলিতে বিনিয়োগ করা কি আপনার পক্ষে সঠিক?

যারা দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বাজারের সাথে যুক্ত আছেন তারা প্রায়শই পেনি স্টকগুলিতে বিনিয়োগ করেন না। তারা  বিশ্বাস করেন যে আপনি যদি অনেক রিটার্ন চান এবং সেটা  দীর্ঘ সময়ের জন্য চান তাহলে  সংস্থাটি ভাল, জনপ্রিয়, তার ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রি  এবং ফান্ডামেন্টাল শক্তিশালী  হওয়া উচিত।

তবে  হ্যাঁ, পেনি স্টক ওয়ালা কোন কোম্পানির  যদি ভবিষ্যতে স্কোপ(Scope)  দেখা যায়, এখানে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন।

পেনিস্টক  গুলিতে বিনিয়োগ করাটা কতটা ঝুকিপূর্ণ?

আপনারা নিশ্চয়ই  হয়তো  ”Scam 1992”  মুভিটি দেখেছেন। এখানে একটা ডায়ালোগ বলা হয়েছিলো-   “লালা রিস্ক হ্যায় তো ইশক হ্যায়” । পেনি স্টক এর একটি জীবন্ত উদাহরণ। যদি আমরা সবচেয়ে বেশি রিটার্ন প্রদানকারী স্টক সম্পর্কে কথা বলি তা হল  পেনি স্টক ।  তবে পেনি স্টকের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্টক আর নেই। এতে অনেক ঝুঁকি আছে। পেনি স্টক সহ কোম্পানিগুলি প্রায়শই ছোট কোম্পানি বা নতুন কোম্পানি, যা কখনও কখনও কম বাজার মূলধন সহ কোম্পানিগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এছাড়া দেখতে পড়তে পারোঃ

শেয়ার বাজারে আর হবে না লস

শেয়ারবাজারে ক্যারিয়ার তৈরি করার উপায়? (Career in Share Market in Bengali)

পেনি স্টকের সুবিধাগুলিঃ

উচ্চ রিটার্ন(High Return):
পেনি স্টক অন্যান্য স্টক তুলনায় উচ্চ রিটার্ন দেয়। কারণ এই স্টকগুলি ছোট কোম্পানির এবং বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে লাভবান হয়। কিন্তু বাজারে অনেক অস্থিরতা আছে, যার প্রভাবও দেখা যাচ্ছে।

ইলিকুইড(Illiquid): 
যেসব কোম্পানির স্টকের দাম কম, অর্থাৎ যেসব কোম্পানির পেনি স্টক আছে, তাদের জনপ্রিয়তা প্রায়ই কম, এই কোম্পানিগুলো সম্পর্কে খুব কম লোকই জানে। এই কারণে খুব কম লোকই তাদের দিকে মনোযোগ দেয় এবং কেনার জন্য খুব কম লোক রয়েছে।

খুব সস্তা(Cheapest):

পেনি স্টক খুবই সস্তা, যার কারণে কোম্পানি লোকসানে গেলেও বিনিয়োগকারীরা খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এটাই তার সবচেয়ে বড় সুবিধা।

দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করলে মূলধন বহুগুণ বেড়ে যায়:

মাঝে মাঝে এমন কিছু পেনি স্টকও বাজারে আসে, যার দাম প্রথম দিকে খুবই কম ছিল কিন্তু ১ বা ২ বছরের মধ্যে পরিমাণ বেড়ে যায় হাজার গুণ পর্যন্ত।

যদি একটি পেনি স্টক সঠিক সময়ে বিনিয়োগকারীরা কিনে নেয়, তবে কিছু সময়ের পরে তার অর্থ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পেনি স্টকের অসুবিধা:

একদিকে যেমন এর অনেক সুবিধা, অন্যদিকে এর অসুবিধাও কম নয়। এর অসুবিধাগুলো নিম্নরূপ-

বেশি ঝুঁকিপূর্ণঃ
পেনি স্টকে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ এতে রিটার্ন ভালো হলেও কোম্পানিটি নতুন। একবার  ডুবে গেলে বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবে না । যে গতিতে তাদের দাম বাড়ে,  সেই গতিতে দাম কমতেও  থাকে।  যদি এটি সাবধানে বাছাই করা না হয় তবে ক্ষতি হতে বাধ্য।

ইক্যুইটি সমস্যাঃ

পেনি স্টক সম্পর্কে খুব কম লোকই জানে।  কোম্পানিটি খুব জনপ্রিয় নয়, যার কারণে কখনও কখনও একজন বিনিয়োগকারী তাদের স্টক বিক্রি করতে চাইলেও তারা বিক্রি করতে পারে না কারণ সেগুলি কেনার জন্য কোনও লোক নেই।

সীমিত তথ্যঃ

বড় কোম্পানির স্টকের প্রতি অনেকেরই আস্থা আছে কেননা সেগুলি সম্পর্কে অনেক তথ্য উদ্ধার করে স্টকের মান নির্ণয় করা হয়। তবে পেনি স্টকযুক্ত কোম্পানিগুলি প্রায়শই বাজারে নতুন বা ছোট হয়, যার কারণে লোকেরা সেই সংস্থাগুলি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে জানে না। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে কি না তা উদ্ধার করতে  অনেক সময় লাগে। যার কারণে পেনি স্টককে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়।

কেলেঙ্কারী হতে পারেঃ 
পেনি স্টকগুলি খুব কম লোকই কিনে এবং তাদের দামও কম, যার কারণে তাদের দাম তুলনামূলকভাবে সহজেই পরিবর্তন করা যায়। এমন অনেক কেলেঙ্কারি হয়েছে যাতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। এই কেলেঙ্কারিতে  কেবলমাত্র সেই লোকেরা উপকৃত হয়েছিল যারা অল্প মুনাফায় কিছু সময় পরে তাদের অর্থ উত্তোলন করেছিল।

Index Fund in Bengali- ইনডেক্স ফান্ড কী?

শেয়ার বাজারে কিভাবে লোকসান ভুলে ধনবান হবেন(How to Avoid Loss and Earn Consistently in the Stock Market)

শেয়ার বাজার কি? শেয়ারবাজার শেখার প্রয়োজনীয় PDF বই সমূহ

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x