Assam State General Knowledge(GK) in Bengali

Assam State General Knowledge(GK) in Bengali

অসম নামের উৎপত্তিঃ

অসম নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা জনের নানা মত। কেউ বলেন, অসমের অসমতল ভূমি অথাৎ উপত্যকায় নানা আকারের পাহাড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণেই অসম এই নাম। সংস্কৃত ‘অসম’ শব্দটিকে ভিত্তি করেই এই ব্যাখ্যা। তবে এই ব্যাখ্যাটি অনেকেই গ্রহণযােগ্য বলে মনে করেন না। এর চেয়ে বেশি গ্রাহ্য আর একটি ব্যাখ্যা হল ‘অসােম’-এর ইংরেজি উচ্চারণেই এর উৎপত্তি। অহমের একসময় নাম ছিল অসােম— এই নামেই ইংরেজরা এই তালটি অধিকার করে।

ভূ-পরিচয় :

সমগ্ৰ অসমকে বর্তমানে দুটি প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়- (১) বরাক উপত্যকা (২) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা। ব্রহ্মপুত্র নদীই অসমের প্রধান নদী। এই নদীর পূর্ণ দৈঘ্য ২,৯০০ কিমি। জল সরবরাহের এলাকা আনুমানিক ৯,৩৫,৫০০ বর্গ কিমি। | পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় অসমে, ১৭৮ থেকে ৩০৫ সেমি পর্যন্ত। চার মাসের মধ্যেই বৃষ্টি সীমাবদ্ধ, জুন থেকে সেপ্টেম্বর।

ইতিহাস :

বিভিন্ন জাতির মানুষের আদর্শ মিলন ক্ষেত্র অসম। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারাকে অসমে স্থান দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রো-এশিয়াটিক, নেগ্রিটো, দ্রাবিড়িয়ান, আলপাইন, ইন্দো-মােঙ্গলয়েড, তিবতীয়, বর্মী এবং আর্যরা অসমে এসেছে নানা রাস্তা ধরে। এই সব জাতির মানুষ এক অভিনব মিলনের মধ্য দিয়ে এক নতুন সম্প্রদায় রূপে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তী কালে এদেরই অসমিয়া বলা হয়। তবে তিব্বতীয় মানুষদের বাসস্থান হিসেবেই এটি সমধিক তা অসমের মানুষের একটা বড় অংশ এই জাতি গােষ্ঠী থেকেই এসেছে অথবা এই বংশের মানুষের সঙ্গে অন্য কোন জাতির সংমিশ্রণের মধ্য দিয়ে এসেছে। প্রাচীন লােককথায় অসমকে বলা হত প্রথমে প্রাগজ্যোতিষপুর, পরে কামরূপ। সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ ,স্তম্ভলিপি, হিউয়েন সাং ও আলবিরনির লেখায় কামরূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। অসমের প্রাণকেন্দ্র গুয়াহাটি।এটি একটি প্রাচীন শহর। পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী প্রাগজ্যোতিষপুর নগরের প্রতিষ্ঠা করেন নরকাসুর। নরকাসুরের পুত্র ভগদত্ত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে কৌরবদের পক্ষে প্রচুর বীরত্ব দেখান।

ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে (১২২৮) অহমরা এ দেশটি  অধিকার করে অহমদের নেতৃত্ব দেন শন উপজাতির রাজা সুকাফা। ইরাবতী উপত্যকায় এদের বাস ছিল। অহমদের উত্থান অসমের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। অহমরা লড়াই করেছিল স্থানীয় করচারি, চুতিয়া এবং মােরান রাজাদের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে তারা নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। গােটা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা | জুড়ে তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কামরূপ এবং গুয়াহাটি শাসন করার জন্য অহমরা ভারাকান’ (ভাইসরয়)-দের নিয়ােগ করেন শেষ ভাইসরয় ছিলেন বদনচন্দ্র। ইনি ক্ষমতার লােভে বর্মীদের সাহায্য চান! বর্মীরা অহমদের সরিয়ে দেয় এবং ভাইসরয় বদননচন্দ্রকে বরখাস্ত করে। অহমরা তখন সাহায্যের জন্য ব্রিটিশদের দ্বারস্থ হয়। ব্রিটিশরা বর্মীদের  বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পরাজিত করে। এর মধ্যে প্রথম বর্মা যুদ্ধ বিখ্যাত। ১৮২৬ সালে ইয়াদাবাের চুক্তি অনুসারে বর্মীরা অসম ত্যাগ করে চলে যায় ।১৮৩২ সালে কাছাড় জেলা অসমের সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৮৩৫ সালে জয়ন্তিয়া পাহাড় অসমের অংশ হয়। অসমের উদ্বাংশ বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয় ১৮৩৯ সালে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় অসমকে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে |জুড়ে দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে অসমে চিফ কমিশনারের শাসন ও ১৯২১ সালে গভর্নরের শাসন চালু হয়। ১৯৭৪ সালে অসমের একটি অংশ চিফ কমিশনারের শাসনাধীন হয়, যার রাজধানী হয় শিলং। দেশ ভাগের সময় শ্রীহট্ট জেলার মুসলিম অধ্যুষিত অংশ পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) সঙ্গে যুক্ত হয়। উত্তর কামরূপের দেওয়ানগিরি ১৯৫১ সালে ভুটানের আধিকারে চলে যায়।

১৯৪৮ সালে মূলত নিরাপত্তার কারণে উত্তর পূর্বাঞ্চল ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি অসম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর ১৯৬৩ সালে নাগাল্যান্ড এবং ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি মেঘালয় ও মিজোরাম অসম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

ভাষা: অসমিয়া, বাংলা (বরাক উপত্যকায়)। ধর্ম : মুসলিম জনসংখ্যার আনুপাতিক বিচারে জম্মু ও কাশ্মীরের পরই অসমের স্থান। জনসংখ্যার ৩০.৯ শতাংশ মুসলিম। হিন্দু ৬৪.৯ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ৩.৭ শতাংশ। প্রশাসন : আইনসভা এক কক্ষের, বিধানসভার আসন সংখ্যা ১২৬। লােকসভার আসন : ১৪। রাজ্যসভার আসন : ৭। প্রধান রাজনৈতিক দল : কংগ্রেস, অগপ, বিজেপি, এনসিপি, সমতা পার্টি, সমাজবাদী পার্টি। হাইকোর্ট : গুয়াহাটি।  জেলা : ৩২। বরপেটা, বঙ্গাইগাঁও, কাছাড়, দরং, ধেমাজি, ধুবড়ি, ডিব্ৰুগড়, গােয়ালপাড়া, গােলাঘাট, হাইলাকান্দি, জোড়হাট, কামরপ, কারবি আংলং, করিমগঞ্জ, কোকরাঝাড়, লখিমপুর, মরিগাঁও, নগাঁও, দিমা হাসাও, নলবাড়ি, শিবসাগর, শােণিতপুর, তিনসুকিয়া, বসা, চিরাং, উদলগুরি, কামরূপ শহর, বিশ্বনাথ, চরাইদেও, হােজাই, দক্ষিণ সালমারা-মানকাছার, পশ্চিম কার্চিআংলং।  প্রধান শহর : গুয়াহাটি, দিসপুর, তেজপুর, শিলচর, জোরহাট, ডিব্ৰুগড়, শিবসাগর, করিমগঞ্জ, তিনসুকিয়া, দিফ, ধেমাজ, নগাঁও, মারিগাঁও, বরপেটা, গােয়ালপাড়া, ধুবুড়ি, বঙ্গাইগাঁও, নলবাড়ি। কাজিরাঙ্গা জাতীয় পার্ক গণ্ডার ও হাতির জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। মানস, অন্যতম জাতীয় পার্ক। এই এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের ঘুরতে হলে তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বিশেষ পারমিট নিতে হয়। এছাড়াও আছে পােবি-তােড়া ও ওরাং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র, শিবসাগরের শিব মন্দির, তেজপুরের মহাভৈরব মন্দির, ভালুকপাঙ, হাফলঙ, মাজুলি দ্বীপ, ছান্দুবি লেক, হাজো, বাতাদ্রাভা ও সুয়ালকুচি। সংস্কৃতি : নৃত্য : রঙ্গালি বিহু, বােহাগ বিহু, মাঘ বিহু, কোঙ্গালি।উৎসব : দোল, বিহু (রঙ্গালি, বােহাগা, মাঘ)।

অসমের সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তরঃ

1.ভারতের কোন দিকে আসাম রাজ্যটি অবস্থিত?

উ: উত্তর-পূর্ব দিকে

2.আসামের রাজধানীর নাম কি?

উ: দিসপুর

3.আসামে সাক্ষরতার হার কত?

উ: ৭৩.১৮%

4.আসামের জনসংখ্যা কত?

উ:৩১২০৫৫৬৬

5.আসামের কয়টি জেলা?

উ: ৩৩টি

6.আসাম নামের কারণ কি?

উ: কিছুজনের মতে, উচু-নিচু ভূমিভাগের জন্য “অসম” বলা হয় কিন্তু অন্যদের

মতে,আহম জাতি কর্তৃক একসময়ে অধিকৃত হওয়ায় এইরূপ নাম হয়েছে,

7.কত সালে আসাম ব্রিটিশদের অধীনে আসে?

উ: ১৮২৬ সালে

৪.আসামের সব থেকে বড় জেলা কোনটি?

উ: Karbi-Anglong

9.আসামের সব থেকে ছােট জেলা কোনটি?

উঃ  South Salmara-Mankachar

10.আসামের উচ্চতম জায়গা কোনটি?

উঃ Namcha Barwa

11.আসামের উত্তর দিকে কোন রাজ্য আছে?

উ: অরুনাচল প্রদেশ

12.আসামের পশ্চিমে কোন দেশ আছে?

উ: বাংলাদেশ

13.১৯৪৭ সালে কোন জেলাটি পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল?

উ: সিলেট

14.কবে মিজোরাম রাজ্যটি আসাম থেকে পৃথক হয়েছিল?

উ: ১৯৭২ সালে

15. ১৯৬৩ সালে কোন রাজ্যটি আসাম থেকে আলাদা হয়:

উ: নাগাল্যান্ড

16. আসাম সাধারণত কি নামে পরিচিত?

উ: কামরূপ

17.আসামের প্রধান ভাষা কি?

উ: অসমীয়া

18.আসামের প্রথম মুখ্য মন্ত্রীর নাম কি?

উ: গােপিনাথ বরদলই

19.আসামের প্রথম রাজ্যপাল কে?

উঃ  Nicholas Dodd Beatson Bell

20.আসামের রাষ্ট্রীয় পশু (State Animal) কোনটি?

উ: ভারতীয় গন্ডার

21.আসামের রাষ্ট্রীয় পাখি কী?

উ: সাদা ডানাযুক্ত হাঁস

22.আসামের রাষ্ট্রীয় গাছ কী?

উ: হােলং(Hollong)

23.আসামের রাষ্ট্রীয় ফুল কী?

উ: কপৌ ফুল (Foxtail Orchid)

24.আসামের প্রধান উৎসব কী?

উ: বিহু

25,এখানকার প্রধান নাচ বা নৃত্য কোনটি?

উ: বিহু নাচ

26.আসাম কোন কোন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানা ভাগ করে?

উ: ভুটান এবং বাংলাদেশ

27.আসামের দুটি প্রধান পর্যন্ত কেন্দ্রের নাম কি কি ?

উ: কাজিরাঙ্গা ও মানস

28.” Gateway of North-Eastern Region”-কাকে বলা হয়?

উ: গুয়াহাটিকে

29.আসামের প্রধান নদী কোনটি?

উ: ব্রহ্মপুত্র

30.আসামে কত গুলি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জায়গা আছে?

উ: ১৮টি

31.কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান কোথায় অবস্থিত?

উ: আসামে

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x