ভারতের স্বাধীনতা উত্তরকালের সমস্যা ও সমাধান

--Advertisement--

ভারতের স্বাধীনতা উত্তরকালের সমস্যাগুলি আলোচনা কর ? এগুলি সমাধানের জন্য ভারত কী কী ব্যবস্থা  নিয়েছিল?

ভূমিকা : সুদীর্ঘকালের লড়াই, আত্মবলিদানের মধ্যে দিয়ে ভারতের কপালে জুটেছিল দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা।দেশভাগের যন্ত্রণায় যখন ভারত দীর্ণ, তখন তার সঙ্গে আরও নানা সমস্যা উপস্থিত হয়েছিল। এই সমস্ত সমস্যার এক এক করে সমাধানও ভারতকেই করতে হয়েছিল।

ভারতের স্বাধীনতা উত্তরকালের সমস্যাগুলি হল-

(১) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: দেশভাগের পর ভারতের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা হাঙ্গামা দেখা দেয়। পূর্ববঙ্গা, বিহার, উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চরম আকার নেয়। ওই সময় গান্ধিজি দালাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে  অবসানের চেষ্টা করেন।

(২) আর্থিক সংকট: দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ভারতে দারিদ্র্যা ও আর্থিক সংকট নেমে আসে।

(৩) উদ্বাস্তু পুনর্বাসন: দেশভাগের পর বহু ছিন্নমূল মানুষ ভারতে আসে। এইসব উদ্‌দ্বাস্তু মানুষদের নিরবছিন্ন ত্রাণ ও পুনর্বাসন ভারতের সামনে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে।

(8) কর্মহীনতা বৃদ্ধি: কাঁচামালের অভাবে ওই সময় ভারতের শিল্পগুলি সমস্যায় পড়ে। এ দেশের শিল্পগুলি ঔপনিবেশিক আমলেই নানা সমস্যায় আচ্ছন্ন ছিল। দেশভাগের পর শিল্পের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

(৫) খাদ্যসংকট : দেশভাগের পর অবিভক্ত ভারতের বিপুল পরিমাণ জমি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী ভারতে চলে আসায় এখানে খাদ্যসংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে।

(৬) সামাজিক সমস্যা: দেশভাগের ফলে ভারতে চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ তেমন ছিল না। উপরন্তু শরণার্থী আগমনে ভারতে নানা সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়।

--Advertisement--

(৭) অভ্যন্তরীণ সমস্যা : স্বাধীনতার পর ভারতবর্ষ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। ভারতে ওই সময় স্লোগান ওঠে ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’। আবার পাকিস্তান পেয়েও জিন্না পুরোপুরি খুশি ছিলেন না। বৈদেশিক প্রেক্ষাপটে  ওই সময় ঠান্ডা লড়াই চলায় সমস্যা অন্যরকম রূপ নেয়।

ভারতের গৃহীত ব্যবস্থা : স্বাধীনতার পর প্রথম পাঁচ বছর উদ্বাস্তু সমস্যাসমাধানের ওপর অত্যধিক জোর দেওয়ায় ওই সময় পর্বকে পুনর্বাসনের যুগ বলা হয়। ওই সময় যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয় সেগুলি হল-

(১) খাদ্যসংকট নিরসনঃ স্বাধীনতার পর অসংখ্য ছিন্নমূল মানুষ ভারতে আসে। ভারত তখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর না হওয়ায় ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বিদেশ থেকে ৩৭ লক্ষ টন খাদ্যশস্য আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তা ছাড়া প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হয়।

(২) আর্থিক উন্নয়ন : আর্থিক উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেচের প্রসার, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, শিল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্বাস্তুদের কর্মসংস্থানের দিকেও লক্ষ রাখা হয়।

(৩) পুনর্বাসন : ওই সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৫০-৭০ লক্ষ শিখ ও হিন্দু শরণার্থী, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা ১০-১৫ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। তাদের গৃহ প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা ও নানা সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

(৪) সরকারি উদারতা : উদ্বাস্তুদের প্রতি সরকার সহৃদয় মনোভাব নিয়েছিল। নেহরু বলেছিলেন, “যেসব ছিন্নমূল মানুষ ভারতে বসবাসের জন্য এসেছেন তাদের নিশ্চয়ই নাগরিকত্ব থাকবে। এ ব্যাপারে আইন যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে আইন পরিবর্তন করতে হবে।”

উপসংহার : স্বাধীনতা উত্তরকালে ভারত একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই সমস্যাগুলির সমাধানে ভারত সরকার বিভিন্ন সময়ে বিবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

Check Also:
জাতীয়তাবাদ কাকে বলে? আনন্দমঠ’ উপন্যাস কীভাবে জাতীয়তাবাদ বিকাশে সহায়তা করেছে?

--Advertisement--

Leave a comment