বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা অথবা বিজ্ঞান ও কুসংস্কার রচনা

বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা অথবা বিজ্ঞান ও কুসংস্কার রচনা

ভূমিকা: “If somebody does not consider science as far, then science is not for than

person.” মন্তব্যটি করেছিলেন ড. বলদেব রাজ। প্রশ্নটা আমাদের চারপাশে সব সময়েই ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘুরে ফিরে আসছে একই কথা, বিজ্ঞানের তাে কদর বেড়েছে, কিন্তু বিজ্ঞান মনস্কতা কোন পর্যায়ে রয়েছে? শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানের গবেষক থেকে রাজনীতিবিদ, লেখক, গৃহবধূ, ছাত্রছাত্রীদের আঙুলে যখন দেখা যায় নানা গ্রহের কু-দৃষ্টি প্রতিকারার্থে দামি দামি পাথর বা রত্ন-ধারণ করতে, তখন প্রশ্ন জাগতেই পারে। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে বিজ্ঞানমনস্কতা কোন স্তরে রয়েছে। তার স্বরুপতাই বা কী রকম।

 

বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা কি এক?

 

একথা ঠিক, বিজ্ঞান আর বিজ্ঞানমনস্কতা মােটেই অভিন্ন নয়। বস্তুত আপ্তবাক্যে অনাবশ্যক আস্থা স্থাপন বা নির্বিচারে আনুগত্য দেখানাে নয়, কার্য-কারণ সূত্রে সব কিছু গেঁথে ফেলা, যুক্তিতে যাচাই করা, বারবার পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ শেষে সিদ্ধান্তে পৌছানােকেই বলা যেতে পারে বিজ্ঞান আর সেই

বিজ্ঞান-বােধকে নিয়মিত জীবন চর্চা ও চর্যায় প্রয়ােগ করা। তাকে মান্যতা দানই হল বিজ্ঞান মনস্কতা। সেখানে ঝাড়ফুক, তাবিজ-মাদুলি, ভূত-প্রেত-ডাইনি-জিনের কোনাে জায়গা নেই।

 

বিজ্ঞানমনস্কতার ভিত :

 

ছাত্রজীবনই গড়ে দেয় বিজ্ঞানমনস্কতার ভিত। তা বাড়াতে সাহায্য করে বিজ্ঞান বিষয়ক

বিভিন্ন গ্রন্থপাঠ, আলােচনা, সেমিনার, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা। বিজ্ঞানকে ভয় না পেয়ে তাকে ভালােবাসতে হবে।তাকে সহজভাবে গ্রহণ করবার মানসিকতা জোরদার করতে হবে। জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে বিজ্ঞানকে। এর ফলে অবৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনা যেমন আমাদের গ্রাস করতে পারবে না, তেমনি বেড়ে যাবে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে যুক্তির আবেগ, ঋদ্ধ হবে বিজ্ঞান মনস্কতা।

 

 বিজ্ঞানমনস্কতার অভাবের ফল :

 

অভাব বিজ্ঞানীদেরও অস্তিত্ব অনেক সময়ে বিপন্ন করে তােলে। অনেক সময়েই বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার কুসংস্কার দীর্ণ বা পিছিয়ে থাকা সমাজ মেনে নিতে পারে না। কখনাে কখনাে অসূয়াবশত

বা শাসকশ্রেণিকে খুশি করবার অছিলায় বিজ্ঞানীও অন্য বিজ্ঞানীর আষ্কিারকে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় যাচাই করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারেন। নিকোলাস কোপারনিকাস, গ্যালিলিয়াে, আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, ওরভিলেও উইলবার রাইট ভ্রাতৃদ্বয়, স্মিথসন টেনান্ট-কে অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছিল। টেস্টটিউব বেবির-র গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাে আত্মহননেরই পথ বেছে নিতে হয়েছিল উপহাসের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে।

 

 বিজ্ঞানমনস্কতার ফল :

 

বিজ্ঞানমনস্কতা ব্যক্তিবিশেষকে সাহসী করে তােলে। নিজের বিশ্বাসে এনে দেয়। অবিচলতা, দৃঢ়তা ও নিষ্ঠা। সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আপােসের পথ পরিহার করতেও শেখায় এই চেতনা বিজ্ঞানমনস্কতাই মানুষকে করে তােলে যুক্তিবাদী, স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী।

 

উপসংহার :

ভারতবর্ষকে একালে বলা হয় ‘জ্ঞানের সমাজ’। সেই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানমনস্কতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুথিগত বিজ্ঞান সকলের জন্য না হলেও বিজ্ঞান যেমন সকলের জন্য বিজ্ঞানমনস্কতাও তেমনি হওয়া চাই জীবনযাপনে অপরিহার্য। প্রসঙ্গ আমরা স্মরণ করতে পারি নােবেল পুরস্কার বিজয়ী ১৯ জন বিজ্ঞানীর খােলা চিঠির লাইনগুলি “আমাদের শিক্ষা ও সামগ্রিক চেতন দিশমার যাগে ম্যাজিক বা অন্ধ কুসংস্কারের মতো ভ্রান্ত ধারণা থেকে দূরে থাকাই সমীচীন । জ্যোতিষশাস্ত্রকে স্বীকার করার অর্থ আধুনিক সমাজকে অস্বীকার করা”।

 

অন্যান্য রচনাগুলি দেখুনঃ

বাংলা রচনাঃ পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ। বাংলা রচনা

এ. পি. জে আব্দুল কালাম(A.P.J Abdul Kalam)। বাংলা প্রবন্ধ

ছাত্রজীবনের কর্তব্য | বাংলা রচনা (Duties of Student Bangla Rachona)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Study Solve © 2019

   DMCA Policy

 

error: Content is protected !!