বাংলা রচনা(Bangla Rachona): শিশু দিবস

 বাংলা রচনাঃ শিশু দিবস


ভূমিকা :

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিন ১৪ই নভেম্বর।। ঐ দিনটি ভারতের সর্বত্র শিশু দিবস হিসাবে পালিত হয়। জওহরলাল নেহেরু শিশুদের খুব ভালবাসতেন, তাদের কাছে ডাকতেন, তাদের কাছে যেতেন। সেই সমস্ত দিনগুলির। কথা ভারতবাসী আজও ভুলতে পারেনি। তাই আজও ঐ দিনটিকে শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

শিশুদের স্থান: 

সমাজে সর্বাগ্রে শিশুদের স্থান দেওয়া দরকার। কেননা শিশুরাই। সমাজের এবং দেশের ভবিষ্যত। দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা দিন দিন সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছেই বাড়ছে, মানুষকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে এই সমস্যা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের যা দরকার সমাজ তা দিতে পারছে না এবং তাদের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারছে না। এর ফলে দরিদ্র শ্রেণীসমাজে থাকা শিশুদের ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। সুতরাং দারিদ্রক্লিষ্ট অনাহারী, অর্ধাহারী দেশে শিশু দিবস পালন যথার্থ হতে পারে না। অনেক সময়েই আমাদের সামনে ফুলের মত নিস্পাপ শিশুরা অবহেলিত হচ্ছে আবার কন্যা সন্তানের তাে কোন গুরুত্বই নেই নিম্ন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের কাছে। এমন কথাও শােনা যায় যে, অভাবের তাড়নায় দরিদ্র মানুষ তাদের শিশুসন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এইভাবে কত শিশু যে বাবা-মায়ের বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে তার শেষ নেই। ভারতের সব জায়গায় কান পাতলে শিশুদের এই নীরব কান্নার শব্দ শােনা যাবে। | সামাজিক দায়িত্ব সমাজে শিশুদের স্থান আগে, একথা সকলকে মনে রাখতে হবে। তাদের ভবিষ্যতের কথা প্রতিটি পিতামাতাকে ভাবতে হবে। শিশুদের অবক্ষয়। মানে হচ্ছে সমাজের অবক্ষয়। শিশুদের ক্ষতি মানে আগামী দিনের দেশ ও জাতির ক্ষতি, একথা ভেবে সকলকে কাজ করতে হবে। তাই আমাদের সামাজিক পরিকাঠামাে পাল্টাতে হবে।

উপসংহারঃ

আমরা দেখি, দিকে দিকে ঘনঘটা করে শিশুদিবস পালিত হচ্ছে কিন্তু। সেইসব হতভাগ্য শিশুদের কথা ভাবা হচ্ছে না। তারা অন্ধকারের অতলে হাবুডুবু। খাচ্ছে। আলােয় উদ্ভাসিত শিশু দিবস উৎসব পালন না করে বাস্তবে শিশুদের কি করে। যথার্থ মানুষ করা যায় তাই দেখতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার উন্নতি হলে তবেই  এ কাজ সম্ভব হবে।

আরোও একটি বাংলা রচনা দেখুনঃ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x