থর্নড়াইকের প্রচেষ্টা ও ভুল শিখনের কৌশল For HS Education Student DAQ Type

: প্রশ্ন) থর্নড়াইকের প্রচেষ্টা ও ভুল শিখনের কৌশল বর্ণনা করাে ?

  • উত্তরঃ প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন:- মনােবিদ থর্নডাইক প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে
    শিখনকৌশলের প্রবক্তা।  তার  মতে,  সমস্যামূলক  পরিস্থিতির ক্ষেত্রে  প্রাণী  লক্ষ্যবস্তুর পরিপ্রে-
    ক্ষিতে ভুল  প্রচেষ্টা  বর্জন  ও  সঠিক  প্রচেষ্টা  নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান ঘটায়  ও
    লক্ষ্যবস্তু লাভ করে। এই ধরণের শিখনকৌশল হল প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন।
    মনােবিজ্ঞানী  থনড়াইক-এর  মতে,  সমস্যামূলক  পরিস্থিতির  ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু ও প্রাণীর
    প্রচেষ্টার  মধ্যে  যখন সঠিক বন্ধন সৃষ্ট হয় তখনই শিখন সম্পূর্ণ হয়। তাই এই ধরণের শিখন-
    কে তিনি সংযােজনবাদ বলে ব্যাখ্যা করেন।
  •           থর্নর্ডাইক-এর মতে, ইতর প্রাণী ও  মানবশিশুর ক্ষেত্রে মানসিক বৈশিষ্ট্য ক্রিয়া করে না।
    তখন প্রাণী প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান ঘটায় ও লক্ষ্যবস্তু লাভে  সক্ষম হয়। থর্ন-
    র্ভাইক একটি পরীক্ষার মাধ্যমে এই ধরণের শিখনকৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি একটি বাক্স তৈরি
    করেন যার মধ্যে কয়েকটি গলিপথ আছে এবং প্রতিটি গলিপথ একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
    একটি নির্দিষ্ট গলিপথে দরজা আছে যার মাধ্যমে প্রাণী বাইরে এসে  খাদ্যবস্তু  লাভ  করতে পারে।
    তিনি একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালকে বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে একটি পাত্রে খাবার রাখেন। ক্ষু-
    ধার্ত বিড়ালটির কাছে এই শিখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। তাই সে প্রতিটি গলিপথে ঢােকে এবং
    বেরিয়ে আসার পথের অনুসন্ধান করে। হঠাৎ একটি গলিপথে দরজা দেখতে পাওয়ায় সে সেখানে
    লাফালাফি করে এবং হঠাৎ তার থাবাটি দরজার হাতলে পড়ায় দরজাটি খুলে যায়। এরপর বিড়া-
    লটি খাদ্যবস্তু লাভ করে। দ্বিতীয় দিন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তিনি লক্ষ করেন যে, বিড়াল-
    টি আগের দিনের তুলনায় অল্প সময়ে ও অল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে।
    এভাবে কয়ে-কদিন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে দেখা যায় যে, একটি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট  সময়ে
    এবং  নির্দিষ্ট প্রচেষ্টার      মাধ্যমে  বিড়ালটি সমস্যার  সমাধান  ঘটায়  এবং  বেরিয়ে   আসতে
    সক্ষম হয়। থর্নডাইক  বিড়ালটির  সঠিক  প্রচেষ্টাকে স্থায়ীকরণের   উদ্দেশ্যে  পরিস্থিতি  পুনরাবৃত্তি
    ঘটান।

থর্নডাইক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শিখন প্রক্রিয়ার কতকগুলি  বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। যেমন –
(1) নির্ভুল প্রচেষ্টা, (2) নতুন প্রচেষ্টার গুরুত্ব, (3) জৈব মানবিক কৌশল, (4)স্থায়িত্ব।

  •    শিক্ষাগত গুরুত্ব: থাইক এই ধরণের শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনাে ধরণের  সমস্যা  সমাধান
    করা সম্ভব বলে মনে করেন। আধুনিক শিক্ষাবিদগণ বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ করে  বানান  ও
    নাম মুখস্থ করার ক্ষেত্রে এই ধরণের শিখনকৌশল বিশেষভাবে কার্যকর। পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে তৃপ্তি-
    দায়ক ফল প্রাণীর মধ্যে যেমন আগ্রহ সৃষ্টি করে, তেমনি অপরদিকে বিরক্তিকর ফলও প্রাণীকে ভুল
    প্রচেষ্টা বর্জনে সক্রিয় করে তােলে। মানবশিশু প্রথম পর্যায়ে হাঁটতে শেখা, দৌড়াতে শেখা এই  ধর-
    ণের সাধারণ কাজ প্রচেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমেই শেখে। দক্ষতামূলক কাজের ক্ষেত্রে বা দক্ষতা অর্জনের
    ক্ষেত্রে এই ধরণের শিখনকৌশল বিশেষভাবে প্রযােজ্য। বিদ্যালয়  শিক্ষার  ক্ষেত্রে, বিশেষ  করে  অঙ্ক, নামতা শেখা, কবিতা মুখস্থ করার সময় শিক্ষক ছাত্রদের কাছে সমস্যা তুলে ধরে  তাদেরই  সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব  দেবেন। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা   বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । কারণ, সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি ও অনুশীলন বিশেষভাবে প্রয়ােজন।
    তাছাড়া, শিক্ষক বিষয়বস্তুকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে  ধরেন
    যাতে শিক্ষার্থী প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তৃপ্তিদায়ক ফল লাভ করতে সক্ষম হবে এবং  সাফল্যের আনন্দও
    পাবে। এর ফলে শিক্ষার্থী ভুল প্রচেষ্টাগুলিকে বাদ দিয়ে সঠিক  প্রচেষ্টা  নির্বাচনের  মাধ্যমে  সমস্যা
    সমাধানে সচেষ্ট হবে। এইভাবে আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে শিখনের ফলে শিক্ষার্থীর শিখন স্থায়ী হয়।

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Study Solve © 2019

   DMCA Policy

 

error: Content is protected !!