গ্রীষ্মকাল বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা । ছোটদের বাংলা রচনা

গ্রীষ্মকাল বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা । ছোটদের বাংলা রচনা 

গ্রীষ্মকাল বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা । ছোটদের বাংলা রচনা 

সূচনাঃ বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দু’মাস গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্ম বছরের প্রথম ঋতু। গরমের প্রভাব চৈত্রের শেষ হতে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বজায় থাকে। এ সময়ে সূর্যের তাপে পৃথিবীকে যেন আগুন এসে পড়ে। নদী, খাল, বিল, পুকুর প্রায় শুকিয়ে যায়। গাছের পাতার সবুজ রূপ ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং মাঠ-ঘাট রােদের তাপে ফুটিফাটা হয়ে যায়।

গ্রীষ্মের রূপঃ গ্রীষ্মকালে প্রখর সূর্যের তাপে মানুষজন বেশি পরিশ্রম করতে পারে না। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাস করতে থাকে। তৃষ্ণায় বুক শুকিয়ে যায়। পরিশ্রান্ত কৃষকরা মাঠ ত্যাগ করে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে সময় কাটায়। পাখিরাও আকাশে না উড়ে গাছের ডালে ছায়ায় বসে সময় কাটায়। এই সময়ে সব মানুষ ও পশুপাখিরা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়। বিকেলে সূর্যের তাপ কমে আসে এবং মৃদুমন্দ বাতাস বইতে থাকে। মাঝে মাঝে বিকেলের দিকে মেঘ জমে এবং কাল বৈশাখীর ঝড় ওঠে ও বৃষ্টি হয়। গ্রীষ্মকাল ফলের ঋতু। এই সময় আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ প্রভৃতি রসালাে ও সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে বেল, জুই, গন্ধরাজ, চাপা প্রভৃতি ফুল ফোটে।

সুবিধা ও অসুবিধাঃ গ্রীষ্মকালে আনন্দ উৎসব বিশেষ কিছু নাই। তবুও ১লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়ায় দোকানে দোকানে গণেশপূজা হয় ও ব্যবসার শুভ সূচনা করা হয়। ২৫শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালিত হয়। এছাড়া অনেক গ্রামে মেলা বসে। গরমের প্রকোপে কয়েকটি রােগের উপদ্রব দেখা যায় যেমন সর্দিগর্মি, জ্বর, আন্ত্রিক রােগ। এছাড়া, কালবৈশাখী ঝড়ে গ্রাম বাংলায় বাড়িঘরের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দামাল হাওয়ায় অনেক গাছ উপড়ে যায় ও ডালপালা ভেঙ্গে যায়। তবুও কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে গরমের প্রখরতা কমে যায় এবং নীরস মাটি সরসতা লাভ করে।

অন্যান্য বাংলা রচনাঃ

আমাদের জাতীয় পাখিঃ ময়ূর । বাংলা রচনা(চতুর্থ শ্রেণী)

বর্ষাকাল বাংলা রচনা । ছোটদের বাংলা রচনা(Bangla Rachana for Kids)

আমাদের জাতীয় পতাকা(Our National Flag) | ছোটদের বাংলা রচনা

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x