এ. পি. জে আব্দুল কালাম(A.P.J Abdul Kalam)। বাংলা প্রবন্ধ

এ. পি. জে আব্দুল কালাম(A.P.J Abdul Kalam)। বাংলা প্রবন্ধ

 

ভূমিকা : মহৎ প্রতিভার আবির্ভাব সব দেশ ও জাতির জীবনেই এক বাঞ্চিত , স্মরণীয় মূহুর্ত। তারা নতুন যুগের বাণীদূত। তারা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেন উজ্জীবন মন্ত্রে। তাদের ধ্যান দৃষ্টিতেই উন্মােচিত হয় সত্যের পথ। এ. পি. জে আব্দুল কালামও এমনই এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি দেশ ও জাতির আশা-আকাঙক্ষার প্রতীক।

 জন্ম ও শিক্ষা জীবন :

তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে মৎস্যজীবী এক পরিবারে ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আবুল পাকির জয়নুল আবেদিন আব্দুল কালাম। বাবা জয়নুল আবদিন। মা আশিয়ানা (আসিয়াম্মা)। বাবা ছিলেন মাঝি, ছােটোবেলায় বাবাকে নৌকা চালানাের কাজে সাহায্য করতে হত এবং মাঝে মধ্যে কাগজ ফেরিও করতে হত তাকে। সেই অবস্থাতেই তিনি স্কুলের পড়াশােনা শেষ করেন। অতঃপর পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতক হন। স্নাতক হওয়ার পর তিনি এয়ারােস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে মাদ্রাজে আসেন। ১৯৬০ সালে সেখানে পড়া শেষ করে যােগ দেন ডি. আর. ডিও-তে।।

 কর্মজীবন :

পদার্থবিদ্যা ও এয়ারােস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আসা কালাম টানা চার দশক কাজ করেছেন ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডি. আর. ডিও) ও ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ই. স. রাে)-তে। তাঁর হাত ধরেই বলা যেতে পারে ভারত পা রেখেছিল অত্যাধুনিক মিসাইল প্রযুক্তির জগতে। তৈরি করতে পেরেছিল ব্যালিস্টিক মিসাইল ও উৎক্ষেপণের প্রয়ােজনীয় পরিকাঠামাে। ১৯৯৮ সালের পােখরানে দ্বিতীয় পরমাণু বােমার পরীক্ষাতেও বিজ্ঞানী হিসাবে কালাম সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। ভারতরত্ন, পদ্মভূষণ-সহ একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী কালামের আরও একটি পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন ভারতের ‘মিসাইল ম্যান’। পরে শিক্ষাবিদ হিসাবেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। বহু বই লিখেছেন, তার মধ্যে ‘উইংস অব ফায়ার’ বেস্ট সেলারের মর্যাদাও পান।

উপসংহার :

শিশুদের সঙ্গে সখ্য অতি গভীর ছিল অকৃতদার কালামের। তাদের সঙ্গে কথা বলতে, গল্প করতে ভালােবাসতেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠন করেন বাড়িতে তার মা এবং স্কুলে তার শিক্ষক। পাচ বছর রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন ‘জনতার রাষ্ট্রপতি’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন তিনি। দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন কালাম। কর্মজীবনে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিদের ২১টির মধ্যে ২০টি ক্ষমা প্রার্থনাই স্থগিত রেখেছিলেন তিনি। তার জন্য প্রবল সমালােচনার মুখেও পড়েন। তার জীবনের কথা উঠে এসেছিল আত্মজীবনী ‘উইংস অফ ফায়ার’-এ। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই স্তব্ধ হল, থামল সেই ডানা, পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ক্ষেপণাস্ত্রের মতােই আচমকা আকাশে হারিয়ে গেলেন ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের জনক।

অন্যান্য বাংলা রচনা দেখুনঃ

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x